এমএন লারমা ও তাঁর উত্তরসূরীদের বর্তমান অবস্থা – তাতিন্দ্র লাল চাকমা

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা যখন ছাত্র ছিলেন তখন পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন রাজনৈতিক দল ছিলনা।তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের সমাজ ছিল পুরোপুরি গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজ।

এই সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল সহজ সরল ও গতানুগতিক।পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃতিতে ছিল অঢেল সম্পদ। এর মধ্যে জুম চাষ জুম চাষ নির্ভর লোকজন ছিল যাযাবরের মতোই।তাই অথিতি পরায়ণতা ও অস্থিতিশীলতা ছিল প্রধান বৈশিষ্ট্য।

এছাড়া সমাজের নেতৃত্ব ছিল একনায়কতান্ত্রিক,পুরুষশাসিত ও উত্তরাধিকার প্রথায় প্রচলিত। এই কারণে এমএন লারমা বলতেন-পার্বত্য চট্টগ্রামের সমাজ সামন্ততান্ত্রিক সমাজে আকন্ঠ নিমজ্জিত। সমাজে জাতীয় চেতনার কোন উন্মেষ ছিলনা।সর্বোপরি কাপ্তাই বাঁধের কারণে সমস্ত খাদ্য উৎপাদনের ভান্ডার জলে ডুবিয়ে দিয়ে অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিল। আর শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ছিল আমলাতান্ত্রিক,জেলা প্রশাসন নির্ভর প্রশাসন।এই অবস্থায় লক্ষাধিক পাহাড়ীকে ভারত ও বার্মায়(মায়ানমার) পালিয়ে যেতে হয়।

এই রকম পরিস্থিতির মধ্যে এমএন লারমা “কাপ্তাই বাঁধ পাহাড়ীদের মরণ ফাঁদ”-এই স্লোগান দিয়ে শুরু করেন রাজনীতি। তিনি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ দিয়ে বুঝিয়ে দেন – ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে অপাহাড়ীর সংখ্যা ছিল ২.৫ শতাংশ। ১৯৬১ সালে তা বেড়ে হয় ১১ শতাংশ, ১৯৭১ সালে বেড়ে ২২ শতাংশ আর ১৯৭৪ সালে ২৫ শতাংশ যার অর্থ হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ পাহাড়ীদের সংখ্যালঘু বানিয়ে তাঁদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র।

রাজনীতিতে তাঁর প্রথম বাধা গোষ্ঠীবাদ – যার উপর তিনি প্রচন্ড আঘাট হানেন। তাঁর বদলে আওয়াজ তুলেন জাতীয়তাবাদের। তখনই আবিষ্কার করেন পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দশ ভাষাভাষী এগারটি জাতির অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু এ জাতিগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও পশ্চাৎপদ। ভৌগলিক কারণে এই জাতিগুলো এতই কাছাকাছি ও পরস্পর সম্পর্কয্যক্ত যে একজাতির সহযোগিতা ছাড়া অন্য জাতির রাজনৈতিক আন্দোলন করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের অর্থনৈতিক জীবন ও সংগ্রাম এক এবং অভিন্ন, আর রাজনৈতিক নিপীড়নও সমান। এই অভিন্নতাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি করেন জাতিগুলোর ঐক্যের স্লোগান-“জুম্ম জাতীয়তাবাদ”।

তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এটাও দেখিয়ে দেন যে বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল আছে এমনকি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলও আছে, সেই রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষণের সমস্যার কথা মুখে স্বীকার করেন কিন্তু বাস্তবে এই জাতিগুলোর অধিকারের জন্য কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ করেন না। তাই পাহাড়ীদেরকে আলাদা অস্তিত্ব সংরক্ষণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যে রাজনৈতিক দল জুম্মজনগণের স্বার্থ ও তাঁদের অধিকারের জন্য লড়াই করে যাবে। তা-ই জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটানো ও জুম্মজনগণের নিজস্ব অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে এমএন লারমার শ্রেষ্ঠ সৃষ্ঠি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও জুম্ম জাতীয়তাবাদ।

এমএন লারমা তাঁর রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এবং যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামে সামন্ত চিন্তাধারা সবচাইতে বেশী প্রভাবশালী ও সর্বত্রই পরিব্যাপ্ত কিন্তু তা সত্ত্বেও এই চিন্তাধারা আপোষপন্থী ও সংগ্রাম বিমূখ। তাই এই চিন্তাধারা জুম্ম সমাজের অগ্রগতিতে কখনোই নেতৃত্ব দিতে পারবেনা। এ কারণে তিনিই জুম্ম সমাজে প্রথম গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেন। প্রতিটি গ্রামে গ্রাম পঞ্চায়েত গঠনের মাধ্যমে জুম্ম জনগণের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করে গড়ে তোলেন। জুম্ম সমাজে ইতিমধ্যে বুর্জোয়া অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠতে পারেনি। এমনকি এই সমাজে ব্যবসায়িক অর্থনীতিও গড়ে উঠতে পারেনি। তাই এই সমাজে বুর্জোয়া চিন্তাধারাও নেতৃত্ব দিতে সফল হবেনা। তাই তিনি ব্যাখ্যা করেন জুম্ম সমাজে একমাত্র প্রগতিশীল চিন্তাধারাই নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। যেহেতু প্রগতিশীল চিন্তাধারা সবচাইতে অগ্রসর এবং পৃথিবীর সর্বত্রই নির্যাতিত-নীপিড়িত মানুষদের সংগ্রামের জন্য ক্ষুরধার অস্ত্র, সেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগুলোর অস্তিত্ব সংরক্ষণের আন্দোলনেও এই চিন্তাধারাটাই হচ্ছে নেতৃত্বের জন্য বাস্তব ও উপযোগী। কিন্তু জুম্ম সমাজে এই চিন্তাধারার কোন সঙ্গী নেই। তাই এই চিন্তাধারার ধারকবাহক তথা নেতৃত্বের জন্য অবশ্যই আজীবন নিরলসভাবে সঙ্গী খুঁজে নিতে হবে। এমএন লারমা তাঁর এই কালজয়ী সিদ্ধান্তকে হাতে ধরে যেমন অনেক কর্মীকে শিখিয়ে গেছেন তেমনি বাস্তবে প্রয়োগ করে জুম্ম জনগণকে ইস্পাত কঠিন ঐক্যে ঐক্যবদ্ধ হতে প্রেরণা যুগিয়েছেন। কিন্তু কালের চক্রে ১৯৮৩ সালের ১০ই নভেম্বরে তিনি শহীদ হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তাঁর উত্তরসূরীরা এই শিক্ষাকে কে কতখানি প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়েছেন।

এমএন লারমার মৃত্যুর পরপরই তাঁর প্রধান উত্তরাধিকারী শান্তিবাহিনীর প্রতিটি ইউনিট থেকে পলিটিক্যাল সেক্রেটারীর পদটি লুপ্ত করে দেন এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার প্রচার ও প্রসারের দায়িত্বে নিয়োজিত আঞ্চলিক কমিটি বিলুপ্ত করেন। তারপর থেকে শান্তিবাহিনীর মধ্যেকার জঙ্গী চেতনা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে । এর পরের ঘটনা আরো ভয়াবহ। এমএন লারমার উত্তরসূরীরা বিপ্লবী কর্মনীতি সঠিকভাবে প্রয়োগ না করে ভ্রান্ত কর্মনীতি প্রয়োগ করতে শুরু করেন। তখন সমগ্র শান্তিবাহিনীতে পুনর্গঠনের নামে যোগ্যতার ভিত্তিতে কমান্ডার, পরিচালক নিয়োগ না করে আনুগত্যের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। কিছু দিনের মধ্যে প্রমাণিত হতে থাকে এই আনুগত্য স্রেফ ব্যক্তিগত আনুগত্য এবং স্বজন পোষণের আনুগত্য। ফলে দেখা গেছে যারা কখনও কোন যুদ্ধে যায়নি বা যুদ্ধ করার কথাও ভাবেনি তাদেরকেই শান্তিবাহিনীতে উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। এতদিন যারা বেসামরিক বিভাগে কাজ করতো হঠাৎ করে তাদেরকে কোম্পানি কম্যান্ডার, সেক্টর কম্যান্ডার ও কম্যান্ড পোস্ট কম্যান্ডার এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে শত্রুর দ্বারা নয় বরঞ্চ নেতৃত্বের দ্বারাই শান্তিবাহিনীর জঙ্গিত্ব পঙ্গুত্ব বরণ করতে শুরু করে। ফলতঃ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় যে এমএন লারমার উত্তরাধিকারীরা নিজেদের বাহিনীর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েন এবং পালাবার পথ খুঁজতে থাকেন।

প্রগতিশীল চিন্তাধারর ভিত্তিতে রচিত দলীয় সাংগঠনিক নীতি ছিল- শত্রুকে অধিকতর শত্রু না করে নিরপেক্ষ করার চেষ্টা করা, নিরপেক্ষকে স্বপক্কে টেনে আনার চেষ্টা করা এবং পার্টির সক্রিয় সমর্থকদের পার্টির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক করা। কিন্তু এমএন লারমার প্রদর্শিত প্রগতিশীল চিন্তাধারা থেকে বিচ্যুত এই নেতৃত্ব বিগত ২৯ বছরে যা করেছে তা হচ্ছে – এক সময়ে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব যা ছিল পার্টির দীর্ঘ শ্রমের ফল- সেই নেতৃত্বকে কাছে টানার বদলে দূরে সরিয়ে দিয়ে এমনকি নিরপেক্ষ রাখার চেষ্টা না করে সরাসরি শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যার ফলে আত্মরক্ষার তাগিদে এই নেতৃত্ব ইউপিডিএফ নামে আত্মপ্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তাই নয় এককালে চরম সংকটে গৃহযুদ্ধের সময় যারা অকুতোভয় যোদ্ধা তাদেরকেও পরবর্তীতে সংস্কারবাদী,বিভেদপন্থী,উপদলীয় চক্রান্তকারী ইত্যাদি নাম দিয়ে হত্যা ও গুম করার ষড়যন্ত্র শুরু করা হয়। যার নীট ফলাফল হচ্ছে পার্টির বিভক্তি। সুতরাং বর্তমানে স্বভাবতই দেখা যাচ্ছে- এমএন লারমার প্রদর্শিত নীতি থেকে সরে যাওয়ার পরিণতি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাত।

কোন রাজনৈতিক দল কতটা প্রগতিশীল তা নির্ভর করে নিজেদের মধ্যকার সংঘটিত ভুলত্রুটি সম্পর্কে সেই পার্টির দৃষ্টিভঙ্গির উপর। কোন পার্টি যদি নিজেদের ভুলত্রুটি সংশোধনে আন্তরিক না হয় ,বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি প্রয়োগ না করে কিংবা তদন্ত করা না হয় তাহলে সেই পার্টি কোনদিন প্রগতিশীল হিসেবে দাবী করতে পারেনা। পার্টির ইতিহাসে কতিপয় ঘটনা- যেমন মুরংদের উপর হামলা, চাবাই মগের উপর হামলা, প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার উপর হামলা,ইউপি চেয়ারম্যান কুসুমপ্রিয় চাকমার উপর হামলা, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর চাকমার উপর হামলা,প্রগতি চাকমার উপর হামলা, অংশুমান চাকমা ও তাঁর সহযোগীদের উপর হামলা এবং সর্বশেষ অনিল তঞ্চঙ্গ্যার অপহরণ; এই সব ঘটনা কার নির্দেশে বা কার দ্বারা সংঘটিত হয়েছে সেই সব হামলার জন্য পার্টির ভাবমূর্তির কতটা ক্ষুন্ন হয়েছে বা উজ্জ্বল হয়েছে তা কোনদিন তদন্ত হয়েছে বা বিচার বিশ্লেষণ হয়েছে বলে জানা যায়নি।। এই ভুলত্রুটির সংশোধনে পার্টি নেতৃত্ব দায়িত্বশীল না হয়ে যদি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে সেই পার্টি তাঁর ভুলগুলো কিভাবে সংশোধন করবে এবং ভবিষ্যতে কিভাবে জাতীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। সে রকম দায়িত্বশীল মনোভাব যদি না থাকে তাহলে আর যাই হোক সেই পার্টি কোনদিন প্রগতিশীল হতে পারেনা এবং জাতিকে নেতৃত্ব  দেয়াও সেই পার্টির পক্ষে কখনই সম্ভব হবেনা।

জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে এমএন লারমা জাতীয় আন্দোলন বা জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আন্দোলনের এই স্তরে দেশপ্রেমিক ও সংগ্রামী সকল শ্রেণীর মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারে যদিও নেতৃত্ব দেবে প্রগতিশীল শক্তি। কিন্তু তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে বর্তমান নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে, চলমান ভ্রাতৃঘাটি সংঘাত স্রেফ ভ্রাতৃঘাটি নয়-এটা একটা শ্রেণী সংগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ জানে সত্তর দশকে পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি পার্বত্য চট্টগ্রামে শ্রেণী সংগ্রাম শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে উৎখাত হয়েছিল। বর্তমান নেতৃত্বেরও একই পরিণতি হতে বাধ্য।

এমএন লারমা সবসময় বলতেন- একজন কর্মীর অবশ্যই তিনটা গুণ থাকতে হবে- ১) শিক্ষা গ্রহণের গুণ, ২) পরিবর্তন হওয়ার গুণ ও ৩) ক্ষমাশীল মনোভাব। কিন্তু তাঁর উত্তরসূরীরা পরিবর্তন হওয়ার জন্য অন্যদের পরামর্শ দেন, কিন্তু নিজেদের দীর্ঘদিনের বদভ্যাস কিংবা বদনাম পরিবর্তনের চেষ্টা করতে দেখা যায়নি। ক্ষমাগুণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমএন লারমা প্রায়ই গুরুত্ব দিয়ে বলতেন-যাদের হাতে ক্ষমতা থাকে তাঁদের অবশ্যই ক্ষমাশীল হতে হবে। বিশেষতঃ জীবনের উপর হাত না দেওয়ার জন্য বলতেন- “জীবন কেড়ে নেয়া যায়, কিন্তু জীবন দান করা যায়না”। সুতরাং যা দান করা যায়না তা নিয়ে মোটেঈ ক্ষমতার অপব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু বিশ্লেষণ করলে আজো দেখা যায় এই সব ক্ষমতাশালী উত্তরাধিকারীদের দ্বারা পার্বত্য চট্টগ্রামে খুন ও অপহরণ যেন নিত্য দিনের ঘটনা। এই সব বিষয়ে বিবেচনা করলে দেখা যাবে- মুখে দাবী করেন, তারা এমএন লারমার উত্তরাধিকারী কিংবা মূল্ধারা অথচ তারাই বেশী রক্তের রাজনীতি করছেন। সে সব দলে মূখ্য দ্বন্ধ আর গৌণ দ্বন্দ্বের কোন ভেদাভেদ নেই। কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের মীমাংসার জন্য ঐক্য-সমালোচনা-ঐক্য আর কার্যকরী হতে পারেনা। তাই পার্টি জীবনে কেউ নিশ্চিত করে বলে পারবেনা কে কতদিন এই দলে টিকে থাকতে পারবে।

যারা আজ এই সহিংস রাজনীতিতে মত্ত তারা বা তাঁদের দ্বারা জুম্ম জাতির একটা বৃহত্তর ঐক্য অর্জিত হতে পারবে,এটা আর কেউ বিশ্বাস করেনা। কিন্তু জুম্ম জনগণ চায় একটা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য এবং ঐক্যের জন্যে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সংঘাত বন্ধ করা। জনগণের এই মতামতকে কেউই আমলে নিচ্ছেনা। অথচ এমএন লারমার শিক্ষা ছিল, জনগণের মতামত সংগ্রহ করা এবং তা সুসংহত করে আবার জনগণের মধ্যে নিয়ে যাবার মত গণলাইন অনুসরণ করা। তা না করে এই উত্তরাধিকারীরা নিজেদের জেদটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং একে অপরের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে প্রকৃত বন্ধুদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজটি অবহেলা করে চলেছেন।

প্রকাশঃ প্রবাহণ, ১০ নভেম্বর ১৯৮৩ স্মরণে স্মরণিকা ২০১২,পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি,মিলনপুর,খাগড়াছড়ি।

তথ্যসংগ্রহ : https://jumpahar.blogspot.com/2020/06/blog-post_15.html

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *