𑄌𑄋𑄴𑄟𑄳𑄦 𑄣𑄬𑄊 𑄣𑄨𑄊𑄨𑄝𑄢𑄴 𑄢𑄨𑄘𑄨𑄥𑄪𑄘𑄮𑄟𑄴 | চাকমা বানানরীতি

চাকমা ভাষায় লেখালেখি ও সাহিত্য চর্চা বিচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে অনেক বছর আগে থেকে। একটা শব্দকে বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন বানানে লিখে যাচ্ছেন। অনেক গবেষক তাদের নিজস্ব গবেষণা থেকে নিজ নিজ বানান রীতি উপস্থাপন করে আসছেন। কিন্তু প্রায়ই সেসব বানানরীতি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে নানা কারণে। ফলে বানান সংক্রান্ত জটিলতা রয়েই গেছে। আমরা যারা চাকমা ভাষা নিয়ে আগ্রহী, তারা কয়েকজন মিলে নিম্নোক্ত চাকমা শব্দাবলীর বানানরীতি তৈরি করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সব বিষয়ে যে আমরা একমত হতে পেরেছি, এমন নয়। তবে অনেকগুলো বিষয়ে একটি সমঝোতায় আমরা এসেছি যে, কোন বানানটা আমরা ব্যবহার করবো এবং কোনটা নয়। এটা আমাদের চাকমা ভাষায় লেখালেখির কাজে একটা গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে বলেই আমরা আশাবাদী। বিজ্ঞ ভাষাবিদগণ আমাদের ভুল ত্রুটিগুলোর যৌক্তিক সমালোচনা করলে আমাদের জন্য তা খুবই সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

এখানে চাকমা শব্দ বলতে আদি থেকেই চাকমা ভাষায় প্রচলিত এবং চাকমা ভাষার নিজস্ব শব্দ বলে ধরে নেওয়া যায় এমন শব্দগুলোকেই বুঝিয়েছি। তাছাড়াও যেসব বিদেশি শব্দ পরিবর্তিত ও কম-বেশি বিকৃত রূপে আমাদের চাকমা ভাষায় প্রবেশ করেছে, উপস্থাপনের সুবিধার্থে সেগুলোকেও আমরা চাকমা শব্দ বলে বুঝিয়েছি। যেমন- 𑄖𑄢𑄳𑄦𑄬𑄁 (তারেং), 𑄇𑄢𑄳𑄦𑄬𑄚𑄴 (কারেন), 𑄜𑄧𑄇𑄴𑄇𑄧𑄢𑄴 (ফক্কর), 𑄏𑄧𑄉 (ঝগা)।

বিদেশি শব্দ বলতে বুঝিয়েছি যেসব বিদেশি শব্দ অবিকৃত অবস্থায় চাকমা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে। যেমন- 𑄘𑄪𑄙𑄴 (দুধ), 𑄝𑄊𑄴 (বাঘ), 𑄖𑄬𑄣𑄴 (তেল), 𑄝𑄳𑄠𑄁𑄇𑄴 (ব্যাংক), 𑄜𑄮𑄚𑄴 (ফোন)।

১. ( 𑄴) মাজ্যা ব্যবহার

খাঁটি চাকমা শব্দের ক্ষেত্রে মাজ্যা ব্যবহার

চাকমা ভাষায় প্রচলিত নিয়ম অনুসারে কেবল 𑄇, 𑄋, 𑄌, 𑄐, 𑄖, 𑄚, 𑄛, 𑄟, 𑄢, 𑄣,𑄤 এই ১১টি বর্ণের উপরে মাজ্যা বসে। তাই প্রচলিত চাকমা শব্দগুলোর বানান লিখতে গিয়ে আমরা কেবল উপরোক্ত বর্ণগুলোর উপরে মাজ্যা দিয়ে লিখব। যেমন- 𑄇𑄇𑄴𑄇, 𑄃𑄚𑄌𑄴, 𑄛𑄚𑄴𑄏, 𑄘𑄘𑄣𑄴, 𑄥𑄌𑄴𑄘𑄧𑄟𑄳𑄦𑅁

বিকৃত বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে মাজ্যা ব্যবহার

যেসব বিদেশি শব্দের বিকৃত রূপগুলোই আমাদের চাকমা ভাষায় প্রচলিত, সেগুলোতে মাজ্যা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমরা উপরোক্ত নিয়মই অনুসরণ করব, কেননা বিদেশি শব্দ হলেও তারা তাদের আদি রূপ হারিয়ে ফেলেছে অথবা কিঞ্চিত বিকৃত হয়ে গেছে। একটা কথা- পরিবর্তিত বিদেশি শব্দগুলোতে প্রায়ই শ, ষ, স এবং ট বর্গের বর্ণগুলো ব্যবহৃত হয়। কিন্তু চাকমা ভাষায় ট বর্গের ব্যবহার হয়ই না। আর শ, ষ এবং স এর জায়গায় কেবল একটা স ব্যবহৃত হয়। তাই চাকমা ভাষায় লেখার ক্ষেত্রে আমরা সেই পরিবর্তিত বিদেশি শব্দগুলোকে চাকমা বানানরীতি অনুযায়ী বদলে নেব। এক্ষেত্রে চাকমা বানানরীতি অনুযায়ী,
𑄥 (স,শ,ষ) হবে 𑄌 (চ)
𑄑 (ট) হবে 𑄖 (ত)
𑄒 (ঠ) হবে 𑄗 (থ)
𑄓 (ড) হবে 𑄘 (দ)
𑄔 (ঢ) হবে 𑄙 (ধ)
𑄕 (ণ) হবে 𑄚 (ন)

উদাহরণস্বরূপ নিম্নোক্ত শব্দগুলোর ক্ষেত্রে আমরা দেখি-

বিদেশি শব্দআমরা লেখববিদেশি শব্দআমরা লেখব
𑄟𑄥𑄴𑄑𑄢𑄴 (মাস্টার)𑄟𑄌𑄴𑄖𑄧𑄢𑄴 (মাচ্ তর্ )𑄝𑄣𑄨𑄥𑄴 (বালিশ)𑄝𑄣𑄮𑄌𑄴 (বালোচ্ )
𑄥𑄴𑄇𑄪𑄣𑄴 (স্কুল)𑄃𑄨𑄌𑄴𑄇𑄪𑄣𑄴 (ইচ্ কুল্ )𑄚𑄧𑄥𑄴𑄑𑄧 (নষ্ট)𑄚𑄧𑄌𑄴𑄖𑄧 (নচ্ ত)

অবিকৃত বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে মাজ্যা ব্যবহার

কিন্তু যেসব বিদেশি শব্দগুলো আমাদের চাকমা ভাষায় অবিকৃত রূপেই প্রচলিত, সেইসব শব্দের ক্ষেত্রে মাজ্যা দেওয়ার সময় আমরা চাকমা মাজ্যারীতির ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে চলে যাব, শব্দটার অবিকৃত রূপ তুলে ধরার স্বার্থে। চাকমা বানানে 𑄈, 𑄉, 𑄊, 𑄍, 𑄎, 𑄏, 𑄗, 𑄘, 𑄙, 𑄜, 𑄝, 𑄞, 𑄥, 𑄦 ও 𑄡 বর্ণের উপরে মাজ্যা দেওয়া যায় না। কিন্তু বিদেশি শব্দগুলো অবিকৃতভাবে লিখতে গিয়ে আমরা তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি খাটাব না, যখন যেখানে মাজ্যা প্রয়োজন হবে, সেখানেই মাজ্যা দেব। উদাহরণস্বরূপ, আমরা বুদ্ধকে বুদ্ধই লেখব, তা লিখতে গিয়ে যে ফ এর উপরে মাজ্যা দিতে হয়, সেটা কিন্তু আমরা এক্ষেত্রে খাটাবো না। সেরূপ বিবেচনা খাটবে অন্যান্য বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রেও। যেমন- 𑄝𑄪𑄘𑄴𑄙𑄧, 𑄘𑄪𑄙𑄴,𑄡𑄪𑄘𑄴𑄙𑄧𑅁

২. 𑄑, 𑄒, 𑄓, 𑄔, 𑄕 বর্ণগুলোর ব্যবহার

চাকমা শব্দের জন্য

চাকমা শব্দগুলোর বানানের বেলায় আমরা 𑄑, 𑄒, 𑄓, 𑄔, 𑄕 বর্ণগুলো ব্যবহার করবো না। আমরা সবসময় ব্যবহার করবো 𑄖, 𑄗, 𑄘, 𑄙, 𑄚 বর্ণগুলো। যেমন- 𑄇𑄖𑄴𑄗𑄮𑄣𑄴, 𑄜𑄖𑄴𑄮, 𑄟𑄘𑄨, 𑄣𑄪𑄙𑄨𑄇𑄴𑅁

বিদেশি শব্দের জন্য

অবিকৃত বাংলা, পালি ও অন্যান্য বিদেশি শব্দগুলোর বানানের বেলায় আমরা 𑄑, 𑄒, 𑄓, 𑄔, 𑄕 বর্ণগুলো ব্যবহার করবো, যখন যেখানে প্রয়োজন। যেমন- 𑄇𑄧𑄑𑄴𑄧𑄢𑄴, 𑄑𑄧𑄉𑄧𑄢𑄴, 𑄑𑄚𑄑𑄚𑄨, 𑄢𑄕𑄩𑅁

. 𑄡 এবং 𑄎 এর ব্যবহার

বাংলা ‘য’ যুক্ত শব্দগুলোর অনুরূপ চাকমা শব্দগুলোতে 𑄡 ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄡𑄬𑄇𑄴𑄇𑄬, 𑄡𑄨𑄘𑄪, 𑄡𑄬𑄟𑄬𑄚𑄴, 𑄡𑄧𑄚𑄨, 𑄡𑄧𑄘𑄨, 𑄡𑄚𑅁
অন্যান্য ক্ষেত্রে 𑄎 ব্যবহার হবে। যেমন- 𑄎𑄉, 𑄎𑄧𑄉𑄴, 𑄎𑄉𑄪𑄣𑄪𑄇𑄴, 𑄟𑄧𑄎𑄉𑄣, 𑄃𑄎, 𑄎𑄚𑄚𑄳𑄦, 𑄎𑄚𑄚𑅁

৪. শব্দে বিভক্তির ব্যবহার

যে কোনো শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলে শব্দের শেষে 𑄌 থাকলে সেটি 𑄏 তে বদলে যায়। যেমন- 𑄉𑄌𑄴 > 𑄉𑄏𑄧𑄢𑄬, 𑄉𑄏𑄧𑄖𑄴𑄪𑄚𑄴, 𑄉𑄏𑄧𑄢𑄴𑅁

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেটি অপরিবর্তিত থাকে। যেমন- 𑄉𑄌𑄴 > 𑄉𑄌𑄴𑄌𑄮𑄭𑅁

৫. 𑄭(ঢেল ভাঙা), 𑄠𑄴 ( য়্ ) এবং 𑄃𑄨 (ই) এর ব্যবহার

যে কোনো শব্দের প্রথমে ই উচ্চারণ হলে তাতে 𑄃𑄨 (ই) ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄃𑄨𑄑𑄴, 𑄃𑄨𑄁𑄢𑄬𑄎𑄨, 𑄃𑄨𑄁𑄣𑄨𑄥𑄴, 𑄃𑄨𑄚𑄴𑄓𑄨𑄠𑅁

আর মাঝখানে বা শেষে ই উচ্চারণ সুস্পষ্ট হলে এবং অন্যান্য মাজারা যুক্ত থাকলে আমরা 𑄭(ঢেল ভাঙা) ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄟𑄪𑄭, 𑄖𑄪𑄭, 𑄝𑄳𑄦𑄮𑄭, 𑄌𑄮𑄭, 𑄇𑄳𑄦𑄭𑄇𑄪𑄭𑅁

কিন্তু মাজারা বিহীন বর্ণে আমরা 𑄭(ঢেল ভাঙা) দেব না। আমরা সেক্ষেত্রে 𑄠𑄴 ( য়্ ) ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄃𑄠𑄴𑄥𑄠𑄴, 𑄉𑄠𑄴𑄉𑄠𑄴, 𑄃𑄠𑄴 𑄃𑄠𑄴 𑄃𑄮 𑄌𑄚𑄳𑄦𑄚𑄴𑅁

আমরা অনেকেই 𑄢𑄋𑄟𑄭𑄖𑄴𑄳𑄠𑄬, 𑄢𑄭𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄬, 𑄝𑄭𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄳𑄦𑄬, 𑄞𑄭𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄬 𑄟𑄚𑄪𑄌𑄴 ইত্যাদি বলে থাকি। সেগুলো আঞ্চলিক ব্যবহার বলে আমরা সেগুলো লিখতে গিয়ে আর 𑄭(ঢেল ভাঙা) দেব না। বরং তার সহজ রূপটাই লিখব- 𑄢𑄋𑄟𑄖𑄴𑄖𑄳𑄠𑄬, 𑄢𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄬, 𑄝𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄳𑄦𑄬, 𑄞𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄬 𑄟𑄚𑄪𑄌𑄴𑅁

তবে বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে আমরা ই থাকলে 𑄭(ঢেল ভাঙা) এবং য় থাকলে 𑄠𑄴 ( য়্ ) ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄛𑄠𑄴𑄈𑄚, 𑄃𑄭𑄚𑄴, 𑄛𑄭𑄣𑄧𑄑𑄴𑅁

৬. 𑄁(এক ফুদো) এবং 𑄋𑄴 (ঙ্) এর ব্যবহার

সাধারণত আমরা 𑄋𑄴 এর ব্যবহার এড়িয়ে চলব। তার বদলে আমরা 𑄁 (একফুদো) ব্যবহার করব। যেমন- 𑄈𑄁𑄈𑄁, 𑄙𑄁𑄙𑄁, 𑄜𑄪𑄁𑄜𑄁, 𑄞𑄪𑄁𑄞𑄁, 𑄞𑄧𑄁𑄌𑄧𑄁, 𑄛𑄧𑄢𑄧𑄁 𑄛𑄧𑄢𑄧𑄁, 𑄉𑄧𑄢𑄳𑄦𑄧𑄁 𑄉𑄧𑄢𑄳𑄦𑄧𑄁, 𑄣𑄧𑄢𑄧𑄁 𑄣𑄧𑄢𑄧𑄁 𑄌𑄧𑄢𑄧𑄁 𑄌𑄧𑄢𑄧𑄁𑅁 ব্যতিক্রম: 𑄌𑄋𑄴𑄟𑄳𑄦𑅁

বাদবাকি ক্ষেত্রে 𑄋 (ঙ্) বসবে। যেমন- 𑄢𑄋𑄌𑄋, 𑄊𑄧𑄋𑄧𑄘 𑄞𑄨𑄘𑄨𑄢𑄬 𑄇𑄧𑄋𑄧𑄘, 𑄌𑄧𑄋𑄧𑄢𑅁

৭. 𑄳𑄠 (য় ফলা) এবং 𑄬 (এ কার) এর ব্যবহার

উচ্চারণে দ্বিত্ব হলে এবং সামান্য মোচড়যুক্ত হলে সেক্ষেত্রে 𑄳𑄠 (য় ফলা) ব্যবহার করব। আমরা জটিল না করে যতদূর সম্ভব ভেঙে ভেঙে লিখব। কিছু জটিল শব্দ, যেগুলোর উচ্চারণ কীভাবে হবে তা নির্ণয় করা মুশকিল: 𑄢𑄋𑄟𑄖𑄴𑄳𑄠𑄬, 𑄢𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄬, 𑄢𑄚𑄴𑄳𑄠𑄳𑄦𑄬, 𑄝𑄬𑄚𑄴𑄳𑄠𑄳𑄦𑄬 𑄛𑄮𑄖𑄴𑄳𑄠𑄬, 𑄝𑄬𑄣𑄴𑄳𑄠𑄬𑅁

তাই আমরা সেগুলোকে সহজ বানানে লিখব এভাবে: 𑄢𑄋𑄟𑄖𑄴𑄖𑄳𑄠𑄬, 𑄢𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄳𑄦𑄬, 𑄝𑄬𑄚𑄴𑄚𑄳𑄠𑄳𑄦𑄬 𑄛𑄮𑄖𑄴𑄖𑄳𑄠𑄬, 𑄝𑄬𑄣𑄴𑄣𑄳𑄠𑄬𑅁

অন্যান্য ক্ষেত্রে 𑄬 (এ কার) ব্যবহার করা হবে। যেমন- 𑄝𑄬𑄚𑄴, 𑄛𑄬𑄇𑄴, 𑄖𑄬𑄉𑄬𑄚𑄴, 𑄃𑄬𑄉𑄬𑄟𑄴, 𑄡𑄬𑄟𑄧𑄚𑄴, 𑄘𑄬𑄌𑄴, 𑄟𑄬𑄣 𑄟𑄬𑄖𑄴𑄝𑄚𑄴𑅁

৮. 𑄚 (ন) এবং 𑄕 (ণ) এর ব্যবহার

বাংলা শব্দগুলোতে 𑄕 (ণ) থাকলে তা লেখা দরকার। যেমন- 𑄜𑄧𑄕, 𑄇𑄢𑄧𑄕𑄴, 𑄟𑄧𑄢𑄧𑄕𑄴, 𑄢𑄕𑄩𑅁

বাদবাকি ক্ষেত্রে আমরা 𑄚 (ন) ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄟𑄧𑄚𑄴, 𑄖𑄮𑄚𑄴𑄛𑄖𑄴, 𑄚𑄧𑄢𑄧𑄟𑄴, 𑄥𑄧𑄚𑄧𑄝𑄧𑄚𑄧, 𑄚𑄨𑄉𑄪𑄢𑄚𑄳𑄦𑅁

৯. 𑄣 (ল) এবং 𑅄 (লহ্) এর ব্যবহার

আমরা সচরাচর 𑄣 (ল) ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄌𑄧𑄣𑄌𑄧𑄣𑄨, 𑄣𑄧𑄢𑄚, 𑄏𑄧𑄣𑄴𑄧𑄛𑄧𑄣𑄴𑄧, 𑄙𑄪𑄣𑄬 𑄘𑄧𑄉𑄧𑄢𑄬, 𑄣𑄧𑄇𑄴𑄈𑄧𑄕𑄴𑅁

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে 𑅄 (লহ্) লক্ষণীয়ভাবে উচ্চারিত হলে সেখানে 𑅄 (লহ্) ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄟𑅄 𑄥𑄪𑄉𑄮𑄢𑄴, 𑄝𑅄, 𑄥𑄨𑄠𑄮𑄋𑄮 𑄛𑅄, 𑄌𑄧𑅄𑄝𑄛𑄴𑅁

১০. 𑄳𑄦(হা মাজারা) এর ব্যবহার

এর ব্যবহার নিয়ে আমরা একমত হতে পারি নি। একপক্ষের মতে, কেবল 𑄚, 𑄟, 𑄡, 𑄢, 𑄣, 𑄥 এই কয়েকটি বর্ণের নিচে 𑄳𑄦(হা মাজারা) দেওয়া যাবে। যেমন- 𑄟𑄳𑄦𑄣𑄴 𑄟𑄌𑄴, 𑄟𑄳𑄦𑄟𑄴𑄟𑄢, 𑄟𑄳𑄦𑄧 𑄦𑄧𑄚, 𑄟𑄳𑄦𑄧𑄣 𑄇𑄪𑄢𑄳𑄦𑄮𑅁 কিন্তু অন্যান্য বর্ণগুলোতে হা মাজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। উদাহরণস্বরূপ, 𑄛𑄳𑄦𑄧𑄢𑄴 লিখতে গিয়ে 𑄛 এর সাথে 𑄳𑄦 হা মাজারা যুক্ত হয়ে যে যুক্তবর্ণ (𑄛𑄳𑄦) সৃষ্টি হয়, তা ‘𑄜’ উচ্চারণের মতো হয়। অর্থাৎ, প+হ= ফ, pa+ha=pha. এতে করে তা দেওয়া না দেওয়া সমান। তাই লিখতে হবে- 𑄛𑄧𑄦𑄴𑄢𑄴, 𑄇𑄧𑄦𑄴𑄢𑄴, 𑄝𑄦𑄴𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄚𑅁

কিন্তু অন্যপক্ষের মতে, 𑄇, 𑄉, 𑄌, 𑄎, 𑄤, 𑄘, 𑄛, 𑄝 এগুলোতেও হা মাজারা দেওয়া যাবে। উদাহরণস্বরূপ, 𑄛𑄳𑄦𑄧𑄢𑄴 লিখতে গিয়ে 𑄛 এর সাথে 𑄳𑄦হা মাজারা যুক্ত হয়ে যে যুক্তবর্ণ (𑄛𑄳𑄦) সৃষ্টি হয়, তা 𑄛 উচ্চারণকে একটু গাঢ় ও প্রলম্বিত করে মাত্র, কিন্তু তা একদম ‘𑄜’ উচ্চারণের মতো হয় না। অর্থাৎ, প+হ=পহ্, pa+ha=pah. কাজেই লেখা উচিত- 𑄛𑄳𑄦𑄧𑄢𑄴, 𑄇𑄳𑄦𑄧𑄢𑄴, 𑄝𑄳𑄦𑄢𑄴 𑄉𑄧𑄢𑄚𑅁

এই বিষয়ে যে যার সুবিধামতো লিখে যাই, কোনো সমস্যা নেই।

১১. 𑄦 এবং 𑄈 এর ব্যবহার

চাকমা ভাষায় 𑄦 এর উচ্চারণ হয় ‘আহ্’। যেমন- 𑄦𑄢𑄴𑄇𑄧𑄢, 𑄦𑄧𑄢𑄚𑄴 𑄦𑄧𑄚, 𑄦𑄬𑄖𑄴, 𑄦𑄖𑄴, 𑄦𑄬𑄟𑄚𑄴, 𑄦𑄬𑄣𑄴 𑄛𑄘, 𑄢𑄎𑄴𑄦𑄌𑄴 ইত্যাদি। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ‘হ’ উচ্চারণও হয় অনেক ক্ষেত্রে। যেমন- 𑄦𑄥𑄴𑄛𑄖𑄣𑄴, 𑄦𑄨𑄣𑄴 𑄌𑄘𑄨𑄉𑄁, 𑄦𑄨𑄣𑄴𑄣𑄮 𑄟𑄨𑄣𑄬, 𑄟𑄧𑄦𑄞𑄢𑄧𑄖𑄴 ইত্যাদি।

অন্যদিকে 𑄈 এর উচ্চারণও হয় দুধরনের। শব্দের শুরুতে হলে এটি উচ্চারিত হয় ‘হা’। যেমন- 𑄈𑄧𑄝𑄧𑄁, 𑄈𑄧𑄘, 𑄈𑄣𑄨𑄇𑄴, 𑄈𑄢, 𑄈𑄢𑄳𑄦, 𑄈𑄧𑄝𑄧𑄢𑄴, 𑄈𑄧𑄢𑄧 𑄦𑄧𑄚, 𑄈𑄧𑄢𑄧 𑄈𑄚𑅁 কিন্তু শব্দের মাঝে অথবা শেষে হলে তার উচ্চারণ হয় ‘খা’। যেমন- 𑄌𑄧𑄁𑄈, 𑄣𑄧𑄇𑄴𑄈𑄧𑄝𑄨𑅁

১২. 𑄨 (বান্যা) ও 𑄩 (বানি ফুদো) এবং 𑄪(একটান) ও 𑄫 (দিটান) এর ব্যবহার

𑄨 (বান্যা) হচ্ছে ‘ ি ’ হ্রস্ব ই-কার এবং 𑄩 (বানি ফুদো) হচ্ছে ‘ ী’ দীর্ঘ ঈ-কার। 𑄪(একটান) হচ্ছে ‘ ু’ হ্রস্ব উ-কার এবং 𑄫 (দিটান) হচ্ছে দীর্ঘ ঊ কার। চাকমা শব্দগুলোর বানানের বেলায় সচরাচর আমরা বান্যা এবং একটানই ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄚𑄪𑄘𑄨𑄟𑄨𑄣𑄬, 𑄖𑄪𑄉𑄪𑄚𑄴, 𑄞𑄪𑄘𑄨, 𑄘𑄪𑄢𑄮 𑄃𑄘𑄪𑄢𑄨𑅁 কেবল বিদেশি শব্দগুলোর বেলায় প্রয়োজন হলে বানি ফুদো এবং দিটান ব্যবহার করবো। যেমন- 𑄢𑄕𑄩, 𑄘𑄫𑄢𑄴𑅁

১৩. চাকমা শব্দ বনাম বাংলা ও অন্যান্য বিদেশি শব্দ

চাকমা শব্দের জন্য:

আমরা চাকমা শব্দগুলোর জন্য চাকমা বানানরীতিই অনুসরণ করবো। সেগুলোতে মাজ্যার ব্যবহার হবে সীমিত, ট বর্গের ব্যবহার হবে না। অন্যান্য মাজারা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও উপরোক্ত নিয়ম ধরে বানান করবো। বিকৃত বিদেশি শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।

বিদেশি শব্দের জন্য:

কিন্তু বাংলা ও অন্যান্য ভাষা থেকে আগত বিদেশি শব্দগুলো যদি একদম অবিকৃত অবস্থায় আমাদের ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা বিদেশি শব্দের বানানকেই লিখব।

◌◌◌◌◌◌ ◌◌

চাকমা বানানরীতি
প্রকাশকাল : ২৭ জানুয়ারি ২০১৪
মূল প্রস্তাবনাকারী: করুণাবংশ ভিক্ষু, জ্ঞানশান্ত ভিক্ষু , বিমুক্তিসার ভিক্ষু , বিমলজ্যোতি ভিক্ষু (পুলকমিত্র চাকমা তাতু)।

Gansanta Bhikkhu

He is a Buddhist monk and writes about Chakma people, language, culture and literature.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *